চুল পাতলা হয়ে যাচ্ছে? জানেন কোন খারাপ অভ্যাসগুলো এর জন্য দায়ী?
কে না রাপুনজেল-এর মতো ঘন‚ লম্বা চুল চায়? কিন্তু কিছু বদ অভ্যাসের ফলে আমাদের চুল উঠে পাতলা হয়ে যায় | আজকে রইলো ১২টা অভ্যাস যা আপনাকে সত্ত্বর পাল্টাতে হবে‚ যদি আপনি ঘন‚ কালো লম্বা চুল চান তো |
- চুল পরিষ্কার না করা : অনেক মহিলারাই সময় পান না কিন্তু নিয়মিত চুল পরিষ্কার করাটা খুব জরুরী | আগে বলা হতো সপ্তাহে তিনবার শ্যম্পু যথেষ্ট | কিন্তু দিন কে দিন দূষণের মাত্রা বেড়েই চলেছে | আজকাল ডারমাটোলজিস্টরা বলেন যে মুহূর্তে মাথার স্কাল্প অয়েলি হয়ে যাবে শ্যাম্পু করে নিতে হবে | মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে রোজ মাথা ধুয়ে নিতেও পারেন |
- অতিরিক্ত তেল লাগানো : হট অয়েল ম্যাসাজে করলে চুলের গোড়া খুলে যায় এবং চুলের বারবাড়ন্তে সাহায্য করে | কিন্তু এর ফলে কিন্তু ছিদ্র বন্ধও হয়ে যেতে পারে | আমাদের শরীরেই তেল উৎপন্ন হয় যা চুলের গোড়ার জন্য যথেষ্ট | তাই তেল লাগানোর সময় মাথার স্কাল্পে তেল না ঘষে চুলের ডগার দিকে কনসেনট্রেট করুন | মাথায় তেল লাগিয়ে বাইরে না বেরোনই ভালো | ডিপ স্কাল্প অয়েল ম্যাসাজ করলে তা এক ঘন্টা রেখে মাথায় শ্যাম্পু করে নিন |
- বিভিন্ন কেমিক্যালসের অতিরিক্ত ব্যবহার : চুলের স্টাইলিং এবং স্ট্রেটনিং করার জন্য বিভিন্ন হেয়ার স্প্রে ব্যবহার করা হয় | এই হেয়ার স্প্রেগুলো ক্ষতিকর কেমিক্যাল দিয়ে তৈরি হয় | নিয়মিত হেয়ার স্প্রের ব্যবহারে চুল কমজোরী হয়ে ভেঙে যাবে | এছাড়াও চুল ও উঠে যাবে | তাই যতটা সম্ভব এইসব হেয়ার স্প্রে না ব্যবহার করাই ভালো | একান্তই যদি ব্যাবহার করতে হয় তাহলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব শ্যাম্পু করে নিন |
- কালারিং আর ব্লিচিং : মাথার রং-এ যে সব কেমিক্যাল দিয়ে তৈরি হয় তা চুলের জন্য খুব ক্ষতিকর | এতে হেয়ার প্রচন্ড ড্রাই এবং ভঙ্গুর হয়ে যায় | একই সঙ্গে চুল উঠেও যায় | কালার করার আগে অনেকেই আবার চুল ব্লিচ করে‚ যা আরো বেশি ক্ষতিকারক | যারা হেয়ার কালার ব্যবহার করেন তারা কালার্ড হেয়ারের জন্য তৈরি শ্যাম্পু আর কন্ডিশনার ব্যবহার করুন | হেনা প্রাকৃতিক উপায়ে চুল রং করে‚ তাও ব্যবহার করতে পারেন |
- দ্রুত চুল আঁচড়ানো : অনেকের ধারণা দ্রুত চুল আঁচড়ালে মাথায় রক্ত চলাচল ভালো হয় | এটা কিন্তু সম্পূর্ণ ভুল ধারণা | উল্টে এর ফলে স্ট্যাটিক ইলেকট্রিসিটি তৈরি হয় যা চুল কমজোরী করে দেয় | তাই তাড়াতাড়ির মধ্যে থাকলেও আসতে আসতে চুল আঁচড়ানোর চেষ্টা করুন |
- কম দামি হেয়ার অ্যাকসেসরি : আমাদের মধ্যে অনেকেই মাথায় বিভিন্ন হেয়ার ক্লিপ‚ হেয়ার ব্যান্ড দিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করতে ভালোবাসি | কিন্তু বাজে মেটিরিয়েল দিয়ে তৈরি হেয়ার অ্যাকসেসরি না ব্যবহার করাই ভালো | কারণ তা চুলের স্কাল্পের জন্য ক্ষতিকর | এছাড়াও চুলে সহজেই জট পড়ে যায় | সব সময় কোয়ালিটি দেখে তবে মাথায় লাগানোর জিনিস কিনুন |
- বেশিক্ষণ চুল বেঁধে রাখা : বেশিক্ষণ চুল বেঁধে রাখলে চুলের ফলিকলসের ক্ষতি হয় | খুব বেশি সময়ের জন্য চুল টেনে বেঁধে রাখবেন না |
- ভিজে অবস্থায় চুল আঁচড়ানো : মনে রাখবেন ভিজে চুলের গোড়া খুব নরম হয়ে থাকে | তাই এই অবস্থায় চুল আঁচাড়ালে অনেক বেশি চুল উঠে যাবে | তাই প্রথমে চুল শুকিয়ে নিয়ে তারপর আঁচড়ান |
- বারবার হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার করা : মাঝেসাজে হেয়ার ড্রায়ারের সাহায্য চুল শুকিয়ে নিতেই পারেন | কিন্তু তা নিয়মিত অভ্যাস বানাবেন না | এর ফলে কিন্তু চুলের এতটাই ক্ষতি হবে যা ঠিক করা যাবে না |
- আনহেলদি খাবার : অতিরিক্ত মদ্যপান বা অতিরিক্ত কাফেন খেলে চুলের ক্ষতি অনিবার্য | হেলদি ব্যালেন্সড ডায়েট খাওয়ার চেষ্টা করুন | খেয়াল রাখুন ডায়েটে যেন বেশি করে প্রোটিন থাকে | শরীরে যদি নিউট্রিয়েন্টস কমতি হয় তাহলে অতিরিক্ত চুল উঠে যাবে | পারলে মাঝে মধ্যে শরীর ডিটক্স করিয়ে নিন |
- স্টেস : স্ট্রেসের ফলে মাথা ব্যথা বা চোখের তলায় কালি পড়ার সঙ্গে চুল উঠে যাওয়ারও সম্ভাবনা অনেকটা বেড়ে যায় | সব সময় চিন্তার মধ্যে থাকলে দ্রুত মাথায় টাক পড়ে যাবে | জীবন থেকে যতটা পারবেন স্ট্রে দূরে রাখুন | নিয়মিত মেডিটেশন করুন |
- সঠিক পরিমাণে না ঘুমোনো : দিনে অন্তত ৮ ঘন্টা ঘুমোনোর চেষ্টা করুন | ৭ ঘন্টার কম ঘুমোলে কোনদিনই হেলদি হেয়ার হবে না | এই কারণেই একে ‘ বিউটি স্লিপ ‘ বলা হয় |
